ইউ হুয়া। আধুনিক চীনের সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখকদের একজন। ৫৮ বছর বয়সী এই লেখকের Chronicle of a Blood Merchant কিংবা to Live এর মতো বইগুলো বিক্রি হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন কপি। আরেক চাইনিজ লেখক মাই জিয়া মিলিটারি ইন্টেলিজেন্সে নিজের সতেরো বছরের কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে লিখেছেন Decoded এবং In the Dark এর মতো বেস্টসেলার থ্রিলার, যেই বইগুলো অনুবাদ করা হয়েছে বিভিন্ন ভাষাতে।
নারীবাদী লেখক চ্যান রেন কিংবা Midnight’s Door, Heaven on Earth, Running Through Beijing বইগুলোর লেখক ঝু জেচেন এই মুহূর্তে আছেন খ্যাতির তুঙ্গে। অতি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ঝু জেচেনের Jerusalem বইটি। জার্মান, কোরিয়ান, ডাচ, জাপানিজ এবং মঙ্গোলিয়ান ভাষায় অনূদিত হয়েছে জেচেনের বই।
চীনা ভাষায় শেং কেয়ি লিখে চলেছেন নতুন প্রজন্মের কথা, ৬০ বছর বয়সী লিউ ঝেনিউন অগ্রজ হিসেবে পালন করছেন দায়িত্বশীল ভূমিকা। এরকম অনেকগুলো নাম মিলে একবিংশ শতকে চৈনিক সাহিত্যে যেই নব বিপ্লব ঘটিয়েছেন, তা এককালের রুশ সাহিত্যের স্বর্ণযুগের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

শুধু চীনা ভাষাতেই নয়, জাপানীজ লেখক হারুকি মুরাকামি কিংবা কাজুয়ো ইশিগুরো, কোরিয়ান লেখক হান কাং অথবা মিন জিন লি, আফগান-আমেরিকান লেখক খালেদ হোসেইনিরা নিজেদের লেখনি দ্বারা তুলে ধরছেন নিজস্ব দেশ-কালের অজস্র খন্ডচিত্র, ঘটিয়ে চলেছেন নীরব বিপ্লব। পাকিস্তানের লেখক মহসিন হামিদ বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দুই বার, ভারতীয় লেখকরাও উড়িয়ে চলেছেন বিজয় ঝান্ডা। রোহিন্তন মিস্ত্রি, ঝুম্পা লাহিড়ী, কিরণ দেশাই, অরুন্ধতী রায়, সুনেত্র গুপ্ত- ভারতকে উপস্থাপন করার জন্য বিশ্ব দরবারে নামের অভাব নেই।

একবিংশ শতাব্দীর এই এশীয় রেনেসাঁ যে শুধু সাহিত্যের জগতেই থেমে আছে, তা কিন্তু নয়। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে কোরিয়ান ফিল্ম এবং টিভি সিরিজগুলো আজকাল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। জাপানের এনিমে পৌঁছে গেছে অন্যরকম উচ্চতায়। ইরানের ছবি তো সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে বারবার। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বলিউডি ধারার বাইরে নির্মিত হচ্ছে অসংখ্য চলচ্চিত্র, নিজেদের সমাজ- ইতিহাস- সংস্কৃতির কথা উঠে আসছে সেগুলোতে। একসময়কার ধ্বসে যাওয়া টলিউড ইন্ডাস্ট্রি কয়েক বছর হলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, দারুণ সব বিগ বাজেটের ছবি নির্মান হচ্ছে সেখানে, গল্প এবং পরিবেশনায় থাকছে নতুন কিছু করার চেষ্টা। বড় বাজেট, বড় তারকা না থাকার পরেও ভাষাগত ফারাককে অতিক্রম করে বাংলাদেশ এবং ভারতে আজকাল ব্যাপক জনপ্রিয় মালায়ালাম সিনেমা, এবং একটি স্বতন্ত্র্য ধারা হিসেবে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে মালায়ালাম সিনেমার নাম।

সংগীত জগতে নতুন একটি ধারার নাম কে-পপ বা কোরিয়ান পপ। এশিয়ার গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপ- আমেরিকাতেও এই ধারার জনপ্রিয়তা ক্রমশঃ বাড়ছে। ইউটিউবকে পুঁজি করে রাতারাতি ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তার অধিকারী হয়ে যাচ্ছেন পার্ক জি সেংসাই এর মতো গায়কেরা, যিনি ভক্তমহলে সাই নামেই অধিক পরিচিত।

ইউটিউব কিংবা বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যে বর্তমান যুগে শিল্প- সাহিত্যের সবচেয়ে কার্যকর প্রচার মাধ্যম, তার অন্যতম প্রধান দৃষ্টান্ত চাইনীজ ঔপন্যাসিক ঝেং ওয়েই। চায়না ডেইলী’র সূত্রমতে, ৩৫ বছর বয়সী এই লেখক অনলাইনে লিখে প্রতি বছর আয় করেন প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার।

সিনেমা নিয়ে আইফ্লিক্স কিংবা নেটফ্লিক্স এর মতো ওয়েবসাইটগুলোর অভিনব প্রচারণা, পাইরেসি এড়াতে গায়কদের অনলাইনে সিডি প্রকাশ, দৃশ্যমান শিল্পের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে ইউটিউবের অন্তর্ভূক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন লেখকদের নিজস্ব ব্লগ কিংবা ওয়েবসাইটে লেখালেখি আধুনিক শিল্প- সাহিত্যে অনলাইনের জয়জয়কারকেই কি চিহ্নিত করে না? এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেখানে শিল্প সাহিত্যে অনলাইনকে অবলম্বন করে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ কিংবা বাংলা ভাষার অবস্থানটা কোথায়?

নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষা বিশ্বসাহিত্যের একটি অন্যতম সমৃদ্ধ নাম। একশো বছর আগেই আমরা সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু সঠিক উপায়ে সংরক্ষণের অভাবে আজকাল অনেক উৎকৃষ্ট সাহিত্যকর্ম হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গহ্বরে। হার্ড কভার বই সহজলভ্য না হওয়ায় আজকাল নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন বইয়ের অনলাইন সংস্করনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কিন্তু গত শতাব্দীর অনেক লেখকের বই কোনো রীতিসিদ্ধ নিয়মে অনলাইনে সংরক্ষিত না হওয়ায় এবং নতুনভাবে সেসব বই প্রকাশিত না হওয়ায়, বাংলা সাহিত্যের অনেক সম্পদ দিনদিন দুর্লভ হয়ে যাচ্ছে। আবু ইসহাক কিংবা শওকত ওসমানদের মতো শক্তিমান লেখকদের লেখনীর সাথে যে কারণে বর্তমান প্রজন্মের অনেক পাঠকই পরিচিত নন।

অনলাইনে যেখানে শত বছরেরও বেশি পুরাতন হলিউডের সিনেমাগুলো সহজেই পাওয়া যায়, সেখানে মাত্র বিশ- ত্রিশ বছর আগের বাংলা সিনেমাও খুঁজে পাওয়া দুস্কর হয়ে ওঠে। ৭৬ বছর বয়সে এসেও অমিতাভ বচ্চন অনলাইনে যথেষ্ট সরব, যত্নের সাথে সংরক্ষণ করা হয়েছে তাঁর সকল কাজ, কিন্তু বাংলাদেশের নায়করাজ রাজ্জাক, শক্তিমান অভিনেতা বুলবুল আহমেদ, নায়ক মান্না প্রমুখ কিংবদন্তীতূল্য অভিনেতার অনেক কাজ অযত্ন- অবহেলায় সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে। শুধু যে পুরাতন শিল্পীরাই এই আধুনিকায়ন থেকে দূরে আছেন তা নয়, নতুন যুগের অনেক শিল্পীও নিজেদের যাবতীয় কাজ এবং অর্জনগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে সিদ্ধহস্ত নন। ফেসবুকে গুটিকয় শিল্পী-সাহিত্যিকের কিছু ভেরিফাইড প্রোফাইল থাকলেও, নিজেদের সমগ্র কার্যাবলী সংরক্ষণের জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তিই সচেতন নন।

বইমেলাকেন্দ্রিক বই প্রকাশের প্রবণতা, দুই ইদে ছবি মুক্তির কালচার এবং এলবাম ভিত্তিক গান প্রকাশ কিংবা অডিও পাইরেসির নানাবিধ ঝামেলা এখনো আমাদের দেশের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের গতানুগতিক একটি ধারা। বছরের যে কোনো সময় বই প্রকাশ করলে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হওয়ার একটি সংশয় থাকে, একই সংশয় কাজ করে ইদ ছাড়া ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে (যদিও মূলধারার সিনেমার বাইরে বিভিন্ন চলচ্চিত্র এবং বিভিন্ন বানিজ্যিক ছবিও সারা বছরই মুক্তি পাচ্ছে)। অনেক গায়ক এলবাম প্রকাশে আজকাল আর উৎসাহী নন পাইরেসির কারণে, কিন্তু এর যথাযথ কোনো সমাধানও এখন পর্যন্ত কেউ বের করেননি। এসব কিছুর একটি যৌক্তিক সমাধান হতে পারে অনলাইনভিত্তিক প্রচার- প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে আরো যত্নশীল হওয়া।

ইন্টারনেটের মাধ্যমেই বিশ্বের দরবারে ইরানী চলচ্চিত্রের আজকের এই প্রসার। সম্পূর্ণ অজানা একটি ভাষা হওয়া সত্ত্বেও মালায়ালাম চলচ্চিত্র পৌঁছে যাচ্ছে নতুন উচ্চতায়, অভিনেতা দুলকার সালমান দক্ষিণ এশিয়ায় হয়ে উঠছেন একজন পরিচিত মুখ- এসব কিছুও ইন্টারনেটের কল্যাণে। আমাদের দেশের শিল্পীদের উচিৎ নিজেদের কাজগুলো সংরক্ষণের বিষয়ে যত্নশীল হওয়া। এতে করে নিজেদের যাবতীয় কাজের প্রচার- প্রচারণা চালানো যেমন সম্ভব হবে, তেমনি কাজগুলো সংরক্ষিতও থাকবে। শিল্প- সাহিত্যের মানুষদের নিয়ে সত্য- মিথ্যা নানাধর্মী গুজবের অভাব নেই, অনলাইনভিত্তিক প্রচারণায় সরব থাকার মাধ্যমে এই গুজবের হাত থেকে নিস্তার পাওয়াটাও অনেকাংশে সহজ হয়ে উঠবে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের জন্য।

সঠিকভাবে ইন্টারনেট এবং ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ব্যবহারের প্রবণতা যতো বাড়বে, বাংলা ভাষা এবং এর সৃষ্টিকর্ম ততো দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে।

বইমেলায় দশ হাজার মানুষের জন্য নয়, লেখকদের এখন লেখা উচিৎ বাংলা ভাষার কোটি কোটি পাঠকের কথা মাথায় রেখে। চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা উচিৎ একশো বছর পর এর সহজলভ্যতার কথা চিন্তা করে। আধুনিক প্ল্যাটফর্মে গান রিলিজের মাধ্যমে শ্রোতাদের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়ার সময়ও এখনই।

সবরকম উৎকর্ষের পথে পরিচালিত হওয়ার সঠিক সময় ও সুযোগ এখনই, দরকার শুধু বাংলা ভাষার সৈনিকদের নিজস্ব সচেতনতার।
লেখক, সৌরভ শাহরিয়ার, উই আওয়ার্স সিনেমা

Comments

  1. курсы гитары ярославль
    [url=https://gitara.vasha-muz-shkola.ru/]https://gitara.vasha-muz-shkola.ru/[/url]

    Reply
  2. You made some decent points there. I looked on the net to learn more about the issue and found most people will go along with your views on this site. Erasmo Rohrdanz

    Reply
  3. Way cool! Some very valid points! I appreciate you writing this article and the rest of the website is also very good. Elisha Dembosky

    Reply
  4. seo оптимизация сайта стоимость
    [url=https://pro-dvizhenieseo.ru/]https://pro-dvizhenieseo.ru/[/url]

    Reply
  5. My relatives always say that I am wasting my time here at web, however I know I am getting know-how all the time by reading thes pleasant articles. Emery Mccaa

    Reply
  6. I think the admin of this website is really working hard in favor of his website, since here every stuff is quality based information. Trent Ladage

    Reply
  7. [url=https://santehnik-na-dom-spb.ru/]вызов сантехника на дом[/url]
    [url=https://santehnik-na-dom-spb.ru]http://www.santehnik-na-dom-spb.ru/[/url]
    [url=https://cse.google.me/url?q=http://santehnik-na-dom-spb.ru]https://www.google.tg/url?q=https://santehnik-na-dom-spb.ru[/url]

    Reply
  8. мусорные пакеты 5 литров
    мешки мусора стандарт
    бахилы 46 размер

    [url=https://bizorg.su/arhangelsk-rg/c992436-mirpack-polietilenovaya-produktsiya-v-arkhangelske

    Reply
  9. где купить мешки под мусор
    мешки для мусора 100 литров
    производство мусорных пакетов

    [url=https://www.proizvoditeli-rossii.ru/upakovka/14259-mirpack-polietilenovaya-produkciya-v-bel

    Reply

35 Comments In This Topic

Your email address will not be published. Required fields are marked *